রাজনীতির সহিষ্ণুতা

0
31

৩০ তম বর্ষ, ১১৯ সিংখ্যা, ৬ ডিসেম্বর ২০১৭, ১৯ অগ্রহায়ণ

রাজনীতিতে সহিষ্ণুতা ? কথাটি শুনে রাজ্যের যে কোণও মানুষের মনে হতেই পারে এটা কি সম্ভব আদৌ ? এ-রাজ্যে যে সব রাজনৈতিক দল রয়েছে তারা সবাই কী সহিষ্ণুতার প্রতিমূর্তি বলে গণ্য ? তাহলে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় বলেন কেন কথাটা ? এ-কথা তো বারবারই বলেছিলেন তিনি যখন রাষ্ট্রপতি ছিলেন। তারপর কিছুদিন আগে রাজ্যে এসে এক অনুষ্ঠানে তিনি সহিষ্ণুতার কথা বলেছিলেন । সেই তখনও বলেছিলনে এখন প্রাক্তন হয়েও বলেছেন সহিষ্ণুতার কথা । প্রাজ্ঞ রাজনীতিক প্রণববাবুর পরামর্শ অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ । কিন্তু প্রশ্ন অন্য জায়গায় । প্রশ হ’ল এমন নীতিকথা তো কতই বলে গিয়েছেন মহাপুরুষরা । ধর্মবেত্তারা । মানুষ কী সেসব কথা মেনে চলেছে আদৌ । পরমত সহিষ্ণু হতে পেরেছে । সবাই নীতিবান, আদর্শবান হতে পেরেছে। যদি হত তাহলে কী প্রতিদিন এইভাবে রক্ত ঝরত। খুন-খারাপি, অসৎ কাজ চলত । সবাই নন, কতিপয় মানুষ, হয়তো তারও বেশি কিছু মানুষ নীতিপরায়ণ, চরিত্রবাণ, সহিষ্ণুবাণ হতে পেরেছেন। পাশাপাশি অনেকেই তার উল্টো পথে রয়েছেন । সমাজে যেভাবে হিংসা বাড়ছে, সন্ত্রাস বাড়ছে, রক্তপাত বাড়ছে তা কম উদ্বেগের বিষয় নয়। আর রাজনীতির ময়দানে তো কথাই নেই। রাজনীতি যারা করে, তাদের প্রাথমিক ধারনাই হ’ল কোনও সহিষ্ণুতার-টহিষ্ণুতার ধার ধারো না । রাজনীতির ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে যা খুশি করে যাও। বিপক্ষকে ‘ডাউন ‘ করতে যে কোনও পন্থা অবলম্বন করো । মুখের কথায় কাজ না হলে ডাণ্ডা ধরো । অস্ত্র ধরো । ছুরি ধরো । বন্দুক ধরো । কিল চড় ঘুষি চালাও । যত নোংরা ভাষায় পারো কটূ বাক্যবান প্রয়োগ করো।  মুখের কথায় কাজ না হলে সোজা অস্ত্রাঘাত হান। দুনিয়া থেকে সরিয়ে দাও। কিংবা হাসপাতালে পাঠিয়ে দাও । পন্থা আরও তো রয়েছে । দরকার হলে সব জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করে দাও। ঘর বাড়ি জ্বালিয়ে দাও, ধানের গাদায় আগুন লাগিয়ে দাও । সরকারি সম্পত্তি পুড়িয়ে দাও । গোহত্যাকারীদের পেটাও । সাংবাদিকদের পেটাও । এমন আরও কত কী । তাহলে কোথায় মূল্য পাবেন প্রণববাবুর সহিষ্ণুতার বাণী ? রাজনীতিতেই তা বরং অসহিষ্ণুতার মাত্রা সবচেয়ে বেশি । এই রাজ্যে তো কয়েক দশক ধরে রাজনৈতিক দলগুলির কম অসহিষ্ণুতা দেখেননি রাজ্যের মানুষ । যাদের কাছে সাংবিধানিক, গণতান্ত্রিক, রীতিনীতি, সংসদীয় মূল্যবোধের কোনও গুরুত্বই নেই। আর যেজন্য প্রণববাবুর মতো বিচক্ষণ নেতাদের এত উদ্বেগ প্রকাশ করতে হয়। কিন্তু এর প্রতিষোধ কী ? কেউ জানে না। সেজন্যই তো ভবিষ্যতের পক্ষে খুবই উদ্বেগের।