বাজির দূষণ

0
89

৩০ তম বর্ষ, ৭২ সংখ্যা, ১৯ অক্টোবর ২০১৭, ১ কার্তিক ১৪২৪

জাতীয় পরিবেশ আদালত বাজির ধোঁয়া থেকে বায়ু দূষণ নিয়ে রাজ্য সরকারের নিষ্ক্রিয়তায় ক্ষুব্ধ। আদালত স্পষ্ট বলেছে, রাজ্যে নিষিদ্ধ শব্দ বাজি কারখানা বন্ধ করতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কোনও সদিচ্ছা নেই, অবশ্য এই নিয়ে মামলা চলছে জাতীয় পরিবেশ আদালতে। রাজ্যে হাজার হাজার বেআইনি বাজির কারখানার অভিযোগ এই মামলায় রাজ্য সরকার অবশ্য ইতিমধ্যে হলফনামা জমা দিয়েছে। তাতে আদালত সন্তুষ্ট নয়। রাজ্য সরকারের শিথিল মনোভাব নিয়ে ক্ষোভ ব্যক্ত করেছে আদালত, রাজ্য সরকারকে সময় দেওয়া পরবর্তী শুনানির সময় পর্যন্ত। মামলায় অভিযোগকারী এমন অভিযোগও করেছেন যে ২০০৯ থেকে এখন পর্যন্ত বেআইনি বাজির কারখানায় আগুন লেগে মৃত্যু ঘটেছে ৫৩ জনের, জখমের সংখ্যা ৭৩। এদের মধ্যে আবার শিশু শ্রমিকও রয়েছে। নিঃসন্দেহে এই ধরনের শৈথিল্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এমনিতেই বাজির দূষণ এবং তার ক্ষতিকারক দিক নিয়ে পরিবেশ বিজ্ঞানীরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন এবং সতর্ক হতে বলেছেন। শব্দবাজি বা আতসবাজি উভয়ই শরীরের পক্ষে মারাত্মক ক্ষতিকারক। এতে ফসফরাস, সালফার, অক্সাইড, কপার, ক্যাডমিয়াম, লেড প্রভৃতি যেসব রাসায়নিক থাকে তা শরীরকে নানাভাবে  ক্ষতিগ্রস্ত করে  তোলে। দৃষ্টি শক্তি, শ্বাসকষ্ট, রক্তে অক্সিজেন চালাচল, স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষমতা হ্রাস ইত্যাদি নানা ধরনের শারীরিক সমস্যা তৈরি করে বলে চিকিৎসকদের অভিমত। সুতরাং বিভিন্ন ধরনের বাজি নিয়ন্ত্রনে কঠোর পদক্ষেপ জরুরি। দীপাবলির আনন্দযজ্ঞে কোথাও কোনও রকম বাজিদূষণ না ঘটে এবং নিয়মের মধ্যে বাজির ব্যবহার করেন সবাই সে ব্যাপারে রাজ্য সরকারের দূষণ নিয়ন্ত্রন পর্ষদ ও পুলিশ প্রশাসনের বড় ভূমিকা রয়েছে। দেশের রাজধানী দিল্লিতে সর্বোচ্চ আদালতের পরামর্শে সব ধরনের বাজির কেনাবেচা বন্ধ করা হয়েছে। দূষণহীন দেওয়ালি পালনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে রাজধানী শহরে, এরাজ্যে সম্পূর্ণ বন্ধ না হলেও যাতে সবরকম বাজি আইন মেনে প্রস্তুত ও ব্যবহার করা হয় তার বলিষ্ঠ পদক্ষেপ গ্রহণ করার দায়িত্ব রাজ্য সরকারের। যদিও রাজ্যের পরিবেশ মন্ত্রী বলে দিয়েছে আদালতের নির্দেশ ছাড়া রাজ্যে বাজি বিক্রি বন্ধ করতে পারবে না রাজ্য সরকার। কেন না বাজি ফাটানো মানুষের সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত। হঠাৎ নিয়ম করে করে তা বন্ধ করা যায় না। তবে এব্যাপারে সচেতনতা বাড়াতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী মশাই যাই বলুন, বেআইনি বাজি, শব্দবাজির বিরুদ্ধে যথার্থ পদক্ষেপ জরুরি। কারণ তা যখন পরিবেশের ক্ষতি, মানুষের শরীরের ক্ষতি তখন বিষয়টি উপেক্ষার নয় কখনই। গোটা রাজ্যে নিষিদ্ধ বাজি তৈরি, বিক্রিতে যথার্থ পদক্ষেপ নিতে হবে। দীপাবলির আনন্দমুখর রাত যাতে কারও কাছে ক্ষতিকারক না হয়ে ওঠে সেটা দেখার দায়িত্ব কিন্তু সরকারেরই।