পাহাড়ে শান্তি

0
56

৩০ তম বর্ষ, ৬৪ সংখ্যা, ১১ অক্টোবর ২০১৭, ২৪ আশ্বিন ১৪২৪

ধীরে ধীরে পাহাড় শান্ত ও স্বাভাবিক হয়ে উঠছে। রাজ্যের মানুষ এটাই চাইছেন। সাধারণ মানুষ এটা জানতে চায় না দার্জিলিংয়ের রাশ বিমল গুরুংয়ের হাত থাকবে না বিনয় তামাংয়ের হাতে থাকবে। এটা দলীয় ব্যাপার। কিন্তু রাজনীতি থাকলেও পাহাড়ে বিগত তিন মাসেও বেশি সময় ধরে মেওন ধরনের রাজনীতি দেখেছেন রাজ্যবাসী তা সকলেই জানেন। বিমল গুরুং যিনি মোর্চার সুপ্রিমো ছিলেন, সেই তাঁর নেতৃত্বে পৃথক গোর্খাল্যান্ড রাজ্যের দাবিতে যে ধরনের হিংসাত্মক, ধ্বংসাত্মক রাজনীতি দেখেছে মানুষ তাতে পাহাড়ে রাজনীতির নগ্ন স্বরূপ প্রকট হয়ে উঠেছে। লাগাতার বনধ ডেকে সমস্ত পাহাড় স্তব্ধ করে দিয়ে কেবলই ছিল ভেঙে দেওয়া, সরকারি সম্পত্তি জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করে দেওয়ার হিংস্র রাজনীতি। বন্ধ থাকছে দোকান বাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সব সরকারি অফিস, হিংসার আগুনে জ্বলেছে পাহাড়। পর্যটন ব্যবসা লাটে উঠেছে। রাজ্য সরকার তার রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করলেও বিমল গুরুং বাহিনীর সদম্ভ আস্ফালনে পাহাড়কে শান্ত করতে বেগ পেতে হয়। হিংসা সৃষ্টির অভিযোগে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার বহু নেতা কর্মীর নামে মামলা হয়েছে। খোদ মোর্চা সুপ্রিমো বিমল গুরুং এবং তাঁর দোসর রোশন গিরি ইউএপিএ-তে অভিযুক্ত হয়েছেন। শেষ পর্যন্ত শান্তিপ্রিয় বিনয় তামাং গোষ্ঠীর লোকজন এগিয়ে আসায় এখন অনেকখানি শান্তি ফিরে এসেছে। বিনয় তামাং ছাড়াও পাহাড়ের অন্যান্য দলগুলির সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ দুটি বৈঠকের পর সবাই অশান্ত পাহাড়কে শান্ত করার কাজে এগিয়ে এসেছেন। বিমল-রোশন গ্রেফতারের ভয়ে বেপাত্তা হয়ে যাওয়ায় বিনয় তামাং ক্রমশ মোর্চার রাশ হাতে নিচ্ছেন। জিটিএ-র মাধ্যমে পাহাড়ের প্রশাসনিক ও উন্নয়নের কাজ, বিভিন্ন পুরসভার স্বাভাবিক কাজকর্ম চালু করার কাজ শুরু হয়েছে। চাপে পড়ে কেন্দ্রে হস্তক্ষেপে গুরুং শিবির বনধ তুলে নিতে বাধ্য হয়েছে। এখন মুখ্যমন্ত্রীর একটাই লক্ষ্য পাহাড় স্বাভাবিক ছন্দে ফিরুক। রাজনীতি থাকুক, তবে তা যেন উন্নয়ন বিরোধী না হয়। কেবল এ রাজ্যই নয়, গোটা দেশের ভ্রমন পিপাসু মানুষ চান দার্জিলিং-এ পর্যটনের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসুক। তবে মোর্চা হঠকারি আন্দোলন অর্থনীতির যে প্রভূতি ক্ষতি করেছে তা থেকে উত্তরণ ঘটতেই হবে। এই দায় কেবল সরকারের নয়, পাহাড়ের সব দলের। সাধারণ মানুষেরও।