এবার একাই, না জোট

0
34
৩০ তম বর্ষ, ১৩৫ সংখ্যা, ২২ ডিসেম্বর ২০১৭, ৬ পৌষ ১৪২৪
গুজরাতে রাহুল গান্ধী কোনও দলের সঙ্গে জোট করেননি। একাই লড়ে সাফল্য পেয়েছেন যথেষ্ট। হয়তো ১২টি আসনের জন্য সরকার গড়া সম্ভব হয়নি সেখানে কিন্তু নরেন্দ্র মোদির ক্যারিশমায় হঠাৎ অনুজ্জ্বলতার রঙ মাখিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছেন রাহুল । দীর্ঘ একটানা পাঁচ বছর জিতে অর্থাৎ ২২ বছর ক্ষমতায় থাকার সময় যে সংখ্যায় আসন দখল সম্ভব হয়েছিল তা এবারই কমে গিয়ে দুই সংখ্যা পৌছে গিয়েছে। কংগ্রেস সেখানে বিজেপির ভোটব্যাঙ্কে নজরকাড়া ধস নামাতে সক্ষম হয়েছে। বলতে গেলে বিজেপি এবার টেনেটুনে পাশ করায় রাজনৈতিক মহলে এই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে রাহুল সভাপতি হওয়ার পরই এই সাফ্ল্য থেকে কী প্রমাণ হয় না ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে এই রাহুল গান্ধী কী বিজেপির ঘুম কেড়ে নিতে পারবে? বড় প্রশ্ন। তার আগে সামনে বছর আরও কয়েক রাজ্যে নির্বাচন। সেটাও অগ্নিপরীক্ষা হয়ে উঠতে চলেছে রাহুল গান্ধীর কাছে। এবং বিজেপি শিবিরেও । তবে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হয়ে উঠবে ২০১৯ – এর মহা নির্বাচন। প্রশ্ন হ’ল কংগ্রেস কী এককভাবে লড়বে, বৃহত্তর বিরোধী জোট করে ভোটের ময়দানে অবতীর্ণ হবে। সেটা নিশ্চয়ই কংগ্রেসের ভাবনার বিষয়, তবে এটা এখন জলের মতো পরিষ্কার কংগেসের শতাধিক বছরের ইতিহাতে গত ২০১৪-র লোকসভা নির্বাচনে সর্বাপেক্ষা শোচনীয় ফলাফল থেকে সনিয়া-রাহুল এটা বুঝতে পেরেছেন জোটের আগে দরকার দলের পুনর্গঠন ও মজুবুতিকরণ। আগে এককভাবে দলকে শক্তিশালী করতে হবে। এই লক্ষ্য নিয়েই গুজরাতের নির্বাচনে লড়াই করে বিশাল সাফল্য পেয়েছে রাহুল। হার্দিক প্যাটেল, জিগনেশ মেবানী ও অল্পেশ ঠাকোরদের পাতিদার, দলিত ও অবিসি ভোটকে সংগঠিত করে অনেক বুদ্ধি করে ভোটের ময়দানে সক্রিয়তা বজায় রেখে রাহুল না জিততে পারলেও দল অনেকখানি সফল। এই সাফল্য থেকে শিক্ষা নিয়েই মোদীর ক্যারিশমায় যা দিতে আগামী দিনে কংগ্রেসকে আগে সুসংগঠিত করার কথা নিশ্চয়ই ভাববেন রাহুল। গুজরাত তাকে সেই শিক্ষাই দিয়েছে। তবে এটাও ঠিক, সনিয়া-রাহুল ভালই জানেন, ২০১৯ এর মোদির দলকে সরাতে হলে অবশ্যই শক্তিশালী বিরোধী জোট দরকার। যে জোট নিয়ে এখন দীর্ঘদিন ধরেই চর্চা চলছে রাজনৈতিক মহলে। তবে সেই জোটে কোন কোন দল থাকবে, কে নেতৃত্ব দেবে, কী হবে জোটের অভিন্ন কর্মসূচি সেসব ব্যাপারে চলেছে। তবে কংগ্রেসের এজেন্ডায় আগে দলকে পুনর্গঠিত করার বিষয়টিই প্রাধান্য পাবে তাতে সন্দেহ নেই।