একসঙ্গে লোকসভা-বিধানসভার ভোট

0
51

৩০ তম বর্ষ, ৬১ সংখ্যা, ৮ অক্টোবর ২০১৭, ২১ আশ্বিন ১৪২৪

একই সময়ে লোকসভা ও সমস্ত বিধানসভার ভোট করতে চায় কেন্দ্রীয় সরকার। এই মর্মে সরকার নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছে। নির্বাচন কমিশনই বলবে এই ব্যবস্থা করার জন্য তাদের যাবতীয় পরিকাঠামো প্রস্তুত রয়েছে কিনা। কমিশন যদি এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজে সবুজ সংকেত না দেয় তবে কেন্দ্রীয় সরকার কখনই এগোতে পারবে না। যদিও কমিশন হ্যাঁ বলে তবে কেন্দ্র এই ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনি সংশোধন বিল পাশ করাতে পারবে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও পি রাওয়াত তেমনই বলেছেন। বেজেপি কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী নেরেন্দ্র মোদীর সরকার একটার পর একটা বৈপ্লবিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে যেমন বিমুদ্রকরণ, জিএসটি চালু, যোজনা কমিশনের বদলের নীতি আয়োগ গঠন ইত্যাদি। এইসব সিদ্ধান্ত গ্রহন করে তাকে বাস্তবায়িত করে তুলেছে মোদী সরকার। যদিও এসবের বিরুদ্ধে কংগ্রেস সহ বিভিন্ন দল কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে। বিশেষত এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিমুদ্রাকরণ ও জিএসটির বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি সোচ্চার হয়েছেন। কেবল এইসব সিদ্ধান্তই নয়, মোদী সরকার একই সঙ্গে লোকসভা ও সব রাজ্যের বিধানসভার ভোট করানো লক্ষ্যেও ধীরে ধীরে এগোতে শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব ভাব প্রতি বছরই কোনও না কোনও রাজ্যের নির্বাচন লেগেই রয়েছে। এই বারং ভোটে প্রচুর অর্থ ও সময়ের অপব্যয় হয়ে থাকে। এবং বারংবার এই ভোতের ফলে উন্নয়নের কাজও মার খায়। গত বছর মার্চ মাস থেকেই গোটা দেকশে লোকসভা ভোটের সঙ্গে বিধানসভা ভোটের পক্ষে সাওয়াল করেছিলেন। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের উপযুক্ত পরিকাঠামো না থাকায় কেন্দ্র এগোতে পারেনি। সেজন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কোষাগার থেকে ইতিমধ্যে ইভিএম কেনার জন্য ১২ হাজার কোটি টাকা এবং ভিভিপ্যাট কেনার জন্য ৩,৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে নির্বাচন কমিশনকে। কমিশন জানিয়েছে আগামী বছরের সেপ্টেম্বরের মধ্যে তাদের হাতে উপযুক্ত সংখ্যক ভোটযন্ত্র চলে আসবে। এখন দেশজুড়ে একই সঙ্গে এই ভোট করাতে কোনও সমস্যা থাকবে না। কেন্দ্র অবশ্য এব্যাপারে সাংসদ বিধায়ক, বিশেষজ্ঞদের কাছে মতামত জানতে চেয়েছে। এব্যাপারে ঐক্যমত না হলে কেন্দ্রের পক্ষে কখনই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা সম্ভব হবে না। সুতরাং আগে সর্বস্তরের সহমত গড়ে তুলতে হবে। মূল দায়িত্ব কেন্দ্রেরই।