অথ মুকুলনামা

0
640
৩০তম বর্ষ, ২০১ সংখ্যা, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৮, ১৪ ফাল্গুন ১৪২৪

মুকুল রায় নাকি ২০০৮ এর পঞ্চায়েত নির্বাচনের মডেল সামনের নির্বাচনে প্রয়োগ করতে চান। সেই মডেলে ভোটে ঘুঁটি সাজিয়ে বিজেপিকে কয়েকটি জেলা পরিষদ উপহার দিয়ে নিজের যোগ্যতার প্রমান দিতে চান। ২০০৮-এ মুকুল ছিলেন বর্তমান শাসক দল তৃণমুল কংগ্রেসে। সবাই জানে তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরেই এই মুকুলই ছিলেন দলের দ্বিতীয় হেভিওয়েট নেতৃত্ব। তাঁর কুশলী রাজনৈতিক বুদ্ধির জন্য স্বয়ং মমতাও তাঁকে বিশ্বাস করে তাঁর উপর দলের অনেক দায় দায়িত্ব দিয়ে রেখেছিলেন। সেই মুকুল রায়ই এখন শিবির বদল করে তৃণমুল থেকে বিজেপিতে যাওয়ার পর নতুন দলে নিজের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে উঠে পড়ে লেগেছেন। যদিও দল্বদল করার সময় দিলীপ ঘোষকে রাজ্যে আমার ক্যাপটেন’ বলে অভিহিত করেছিলেন। তাতে যে চিঁড়ে গুড় ভেজেনি তার প্রমাণ মিলেছে পরবর্তীকালে নানা ক্ষেত্রে। মুকুল বিজেপিতে আসার পর দলে তাঁকে খুব একটা গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন মনে করেন নি। বরং এমনও বলেছেন দিলীপ-রাজ্যে দলের ব্যাপারে শেষ করা বলবেন তিনিই। নির্বাচনের সময় প্রার্থী স্থির করা থেকেসমস্ত সিদ্ধান্ত তাঁর নেতৃত্বেই গৃহীত হবে। এমনকী প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি বর্তমানে দলের কেন্দ্রীয় সম্পাদক রাহুল সিন্‌হা ও মুকুল রায়কে খুব একটা গুরুত্ব দেন বলে মনে হয় না। মুকুল রায় নিজেও সেটা জানেন। তাই চাতূর্যের সঙ্গে তাঁর কৌশল হল অমিত শাহদের কাছে তাঁর নম্বর বাড়ানো যদিও এপর্যন্ত কোনও উপ-নির্বাচনেই তাঁর তেমন কোনও কুশলতার প্রমাণ পাননি অমিত শাহরা। শাসক দলের কোনু বড় নেতাকে ভাঙিয়ে আনতেও পারেননি। ওসব নির্বাচনে বিজেপির ভোট যা বেড়েছে তা মুকুলের কল্যাণে নয়, তা বিজেপির প্রতি মানূষের ক্রমবর্ধ্মান আস্থা বৃদ্ধির কারনেই। মুকুল নিজেও সেটা জানান এবং জানেন বলেই এবার পঞ্চায়েত নির্বাচনকে ‘পাখির চোখ’ করেছেন মুকুলবাবু। ঘনঘন শীর্ষ নেতাদের কাছে গিয়ে নানা স্বপ্ন দেখিয়ে পঞ্চায়েত ভোটে দলের নির্বাচনী কমিটির প্রধান পদটি দখল করে এনেছেন। শীর্ষ নেতৃত্বে কাছে বলে এসেছেন ২০০৮-এর পঞ্চায়েত ভোটের মডেলকে কাজে লাগিয়ে কয়েকটি জেলা পরিষদ বিজেপির পক্ষে এনে তাঁর কেরামতি দেখিয়ে ছাড়বেন তিনি। তাঁকে বিশ্বাস করেছেন অমিত শাহ। তাই নতুন দায়িত্ব পেয়ে নতুন উদ্যমে মুকুল রায় পঞ্চায়েত ভোটের ময়দানে নেমে পড়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর কাছে শাসক দলের সন্ত্রাসের বিহিত চেয়েছেন। এখন আবার কিছু কিছু পুলিশকর্তা আর আমলাদের সঙ্গে তলায় তলায় নাকি যোগাযোগ শুরু করেছেন মুকুলবাবু। কিন্তু প্রশ্ন হল মমতা যেভাবে দলকে এখনও কঠোর অনুশাসনী বেঁধে রেখেছেন, দলে গোষ্ঠী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলেও কেউই দল ছেড়ে যান নি, সুতরাং মুকুলের কী এমন কারসাজি রয়েছে যে তিনি পঞ্চায়েত ভোটে সব বিজেপিময় করে দেবেন? বুথে বুথে দলের সংগঠন না গড়ে এমন প্রত্যাশা যে আকাশকুসুম তা দিলীপ-রাহুলরাও জানেন। তবে সময়ের অপেক্ষা। মুকুল রায়ের ভেল্কি দেখাই যাক না।