জমিদারি নেই, মেজাজটা থেকে গিয়েছে গোবিন্দপুরের ব্যানার্জী পরিবারের জগদ্ধাত্রী পুজোয়

0
281
পত্রিকা প্রতিনিধিঃ সেই জমিদারি নেই, তবে মেজাজটাই কেবল থেকে গিয়েছে। এখনও জগদ্ধাত্রী পুজোর‍্য তাই গোটা গ্রাম উঠে আসে ব্যানার্জী পরিবারে। চন্দ্রকোনার ঝাঁকরার কাছে গোবিন্দপুর গ্রামে সেই কবে জগদ্ধাত্রী পুজোর পত্তন করেছিলেন শ্রীনাথ চক্রবর্তী। তার পর তাঁর পুত্র অখিল চক্রবর্তী এবং অখলবাবুর পুত্র শশধর ব্যানার্জীর সময়ও পুজোর জৌলুস বজায় ছিল। চক্রবর্তী থেকে পদবি পাল্টে তিনি ব্যানার্জী হয়েছিলেন।
তিনি প্রয়াত হওয়ার পর পুজোর দায়িত্ব বর্তেছে তাঁর ছয় পুত্র বিনয়, গৌর, সুনীল, গোপাল, কাজল এবং সলিলের উপর। পিতৃপুরুষের পত্তন করা দেবী বন্দনায় কোনও রকম ঘাটতি রাখেন না এঁরা। কাজল ব্যানার্জী জানালেন এবারও পুজো হচ্ছে শাস্ত্রাচার ও নিষ্ঠাভক্তি সহকারে। রবিবারেই হবে দেবীর সব পুজো। পুজোতে এখনও ছাগ বলির প্রথা রয়েছে। দেবীর মূর্তি এখানে উগ্র, সিঙ্ঘের উপর দেবী যুদ্ধারতা। কলিঙ্গাসুরকে বধ করা দৃশ্যাপট। সব ভাইয়েরা মিলে পুজোর‍্য সামিল হন সবাই। গুড়াপিঠে থেকে মুড়ি-মুড়কি-পায়েস খিচুড়ি অন্নভোগ ফলমূল প্রভৃতি সমস্ত উপাচার দিয়ে মাতৃপুজো হয়। বলি হওয়া ছাগ মাংস রান্না করে দেবীর কাছে নিবেদন করা হয়। গোটা গ্রামের মানুষজন আমন্ত্রিত হন। সবাইকে বসিয়ে খাওয়ানো হয়। পারিবারিক পুজো হলেও তা সর্বজণিনের চেহারা নেয়। পরিবারের এক বধু মৌসুমী দেবী জানালেন, পুজোর মেয়েদের ব্যস্ততাও কম থাকে না। কয়েকদিন ধরেই সবাই যোগাড়যন্ত্র করার কাজে হিমসিম খাই সবাই, এটাই আমাদের আনন্দ।
দেবী প্রতিমা বিসর্জন করা হয় উত্থান একাদশীর পরে। সব মিলিয়ে পুরনো এই জমিদায় পরিবারের পুজোর ঐতিহ্য এখনও নিটোল।