১৮৬ বছরের সুপ্রাচীন মল্লেশ্বর-মল্লেশ্বরী-র পূজো, মন্দিরের ভগ্নদশা

0
504

কৌশিক ভট্টাচার্য, মল্লেশ্বরপুরঃ পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ঘাটাল মহকুমা-র চন্দ্রকোনা পৌরসভা-র ১২ নম্বর ওয়ার্ডের মল্লেশ্বরপুরে ১৮৬ বছরের সুপ্রাচীন দেবদেবী মল্লেশ্বর মল্লেশ্বরীর (শিবদূর্গা) পূজা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে়। বর্ধমানের প্রাচীন রাজা মল্ল রাজ বংশের পূজো এটি। বর্তমানে স্থানীয় এলাকাবাসীরা-ই পুজোর উদ্যোক্তা। অতি সুপ্রাচীন এই পূজো ঘিরে এলাকাবাসীর মধ্যে এবং সংলগ্ন এলাকায় সাড়া পড়ে যায়। যথাবিহিত রীতিনীতি ও আচার অনুষ্ঠান মেনে শ্রদ্ধাভক্তির মধ্য দিয়ে এই পূজো অনুষ্ঠিত হয়। শিবদূর্গার কোনো মৃন্ময় মূর্তি নেই। মন্দিরের মধ্যে গম্ভীরের ভেতর অস্টধাতুর মূর্তি পাথর চাপা দেওয়া আছে। কথিত আছে প্রাচীনকালে বর্গীরা আক্রমণ করলে ওই মূর্তি এবং আরও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী গম্ভীরের মধ্যে রেখে পাথর চাপা দিয়ে দেওয়া হয়েছিল। যদিও ওই গম্ভীরের মধ্যে কি আছে তা অনুমান মাত্র। ওই পাথর সরিয়ে সত্যতার মুখোমুখি হবার ধৃষ্টতা কেউ দেখায়নি। প্রবাদ আছে অষ্টমীর দিন কামান দাগা হতো এবং সেই শব্দে বর্ধমানের রানী উপবাস ভেঙ্গে জলগ্রহন করতেন। আজও সপ্তমী, সন্ধি, এবং নবমী-তে রীতি মেনে ছাগ বলি হয়। তবে সবচেয়ে আকর্ষণের বিষয় নবমীতে মহিষ বলি। আজও প্রচন্ড উৎসাহ উদ্দীপনা এবং প্রচুর জনসমাগমের মধ্য দিয়ে নবমী তিথিতে প্রাচীন ধারা অনুযায়ী মহিষ বলি করা হয় যা এলাকায় রীতিমতো সাড়া ফেলে দেয়। প্রবাদ আছে, মহিষ বলির পূর্বমুহূর্তে আকাশে একজোড়া শঙ্খচিল উড়তে দেখা যায়। এছাড়া এইসময় মন্দিরের রুদ্ধদ্বারের মধ্যে দুটি জাগপ্রদীপের শিখা মিলিত হয়ে এক হয় বলে জনশ্রুতি আছে। র্তমানে মূলমন্দির ও সংলগ্ন নাটমন্দির এবং প্রাচীরের অবস্থা জরাজীর্ণ ও ভগ্নপ্রায়। অবিলম্বে স্থানীয় প্রশাসন উদ্যোগ না নিলে ধ্বংস হয়ে যাবে সুদীর্ঘকালের একটি প্রাচীন ইতিহাস।