সর্বজনীন ও পারিবারিক কালিপুজোকে ঘিরে জেলাজুড়ে উন্মাদনা তুঙ্গে

0
130
মেদিনীপুরে মানিক পুরের ভাতৃ সংঘের কালি প্রতিমা-ছবি নিতাই রক্ষিত
পত্রিকা প্রতিনিধিঃ মেঘের মুখ ভার। শেষ পর্যায়ে কালীপুজোর প্রস্তুতিতে ব্যস্ত ঘাটাল, দাসপুর, চন্দ্রকোনা। সর্বজনীন পুজোর সঙ্গে পারিবারিক কালীপুজোতেও ব্যস্ততা তুঙ্গে। মন্দিরগুলিতেও চলছে পুজোর প্রস্তুতি। দেওয়ালি ও কালীপুজোতে বিশৃঙখলা এড়াতে ঘাটাল মহকুমার প্রতিটি থানার পুলিস বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলিতে চলছে পুলিসের টহলদারি। ক্ষীরপাইতে শুদ্ধদেব রায়ের বাড়িতে ৪০ ফুট উচ্চতার কংক্রিটের কালীপ্রতিমার পুজোর প্রস্তুতি চলছে জোরকদমে। চন্দ্রকোনার বৈকুন্ঠপুরে নেতাজী সংঘ ও নাড়ুয়া স্পোর্টিং ক্লাবের সর্বজনীন কালীপুজোর মণ্ডপসজ্জার কাজ চলছে অন্তিমপর্বে। বাঁকা গ্রামে কালীপুজো উপলক্ষ্যে নরনারায়ণ সেবার আয়োজন করছেন প্রশান্ত কারক। ঘাটাল শহরের কুশপাতায় ১২ হাত কালীর পুজোয় মাতেন আবালবৃদ্ধবনিতা। কংক্রিটের এই কালীপুজোর প্রস্তুতিতে সামিল হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কোন্নগর, বরদা, ময়রাপুকুর, মনসুকা, সুলতাননগর সর্বত্রই শক্তির আরাধনায় ব্যস্ত পুজো কমিটিগুলি। দাসপুর ১ নং ব্লকের হাটগেছিয়া সর্বজনীন কালীপুজোর বিশাল মণ্ডপসজ্জার কাজ চলছে জোরকদমে। এখানে পুজো উপলক্ষ্যে নানান সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে বলে উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন। চন্দ্রকোনা রোডের রেনেসাঁস ক্লাবের কালীপ্রতিমা প্রায় ৪০ ফুট উচ্চতার। সেই প্রতিমাই এবার উদ্যোক্তাদের মূল আকর্ষণ। তাই একদিন আগের থেকেই প্রস্তুতি সেরে রাখছেন তাঁরা। সর্বজনীনের সাথে পারিবারিক কালীপুজোতেও চলছে শেষ পর্যায়ের প্রস্তুতি। ঘাটালের হড় পরিবারের তিনশ বছরেরও বেশি পুরানো কালীপুজো হয় নিয়মনিষ্ঠ মেনে। পুজোমণ্ডপ সাজানোর কাজ শুরু হয়েছে এখানে। দাসপুর ২ নং ব্লকের দুবরাজপুর গ্রামে ঘোড়ই পরিবারের  কালীপুজোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে জোরকদমে। ঘাটালের ইড়পালার চ্যাটার্জি বাড়ির কালীপুজো ৭ বছরেরও বেশি পুরানো। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দারাও হাত লাগিয়েছেন প্রস্তুতিতে। এদিকে নিম্নচাপের মেঘ কাটতেই ঝলমলে আকাশে প্রতিমা শুকোতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন মৃৎশিল্পীরা। চন্দ্রকোনার গোসাঁইবাজার, ক্ষীরপাইয়ের হালদারদিঘীতে কালীপ্রতিমা রোদে শুকোনোর ব্যস্ততা শুরু হয়েছে মৃৎশিল্পীদের মধ্যে।
বিনপুরের রাজপাড়াতে রাজপাড়া সবুজ পল্লী জনকল্যান সংঘ এর উদ্যোগে কালী মায়ের এগারো রুপ এর শ্যামা পুজোর পাশাপাশি বাৎসরিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা,  সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও চারদিন ব্যাপি মিলন মেলার আয়োজন করা হয়েছে।এবারের পুজো ১১ তে পা দিয়েছে। এবারের পুজোর বাজেট ৩ থেকে ৪ লক্ষ টাকা।এবারের মুল থিম দশ মহাবিদ্যা পিট থেকে পুরানের যে দশটা রুপ রয়েছে মা কালীর সেই দশ রুপকে তুলে ধরা।পাশাপাশি  সমাজসেবা মুলক কিছু তুলে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে যেমন সেভ ড্রাইভ সেভ লাইভ, কন্যাশ্রী,ধুমপানের বিরুদ্ধে, গাছ লাগান প্রান বাঁচান ইত্যাদি। পুজোর এই কটা দিন এখানে উৎসবে পাশাপাশি গ্রামের মানুষের ঢল দেখা দেয়।
প্রবল বৃষ্টিপাতের কারনে বিপর্যস্ত ঝাড়গ্রামের কালীপূজো গুলি।বৃষ্টিপাতের ফলে পূজো কমিটি গুলির মাথায় হাত। শেষ মুহুর্তের প্রস্তুতি তে বাধা হয়ে দাঁড়ালো। ঝাড়গ্রামের কেশবডিহি সার্বজনীন শ্যামা পূজা কমিটির এবারের চমক ৬০ ফুটের কালী প্রতিমা।এবছরের পূজো ৩৭ বছরে পা দিয়েছে।স্বাভাবিক ভাবে দেখলে মনে হবে আশেপাশের পাহাড় ও গাছপালা থেকে কালী প্রতিমার উচ্চতা অনেক বেশী।কলকাতার দেশপ্রিয় পার্কের ১০০ ফুটের দূর্গা প্রতিমা যেমন চমক দিয়েছিল ঠিক তেমনি এবারে ঝাড়গ্রামে কেশবডিহির ৬০ ফুটের প্রতিমা চমক দিতে চাইছে।শিবের জটা থেকে বেরিয়ে আসা ঝর্না অবশ্যই দর্শনার্থী দের মন কাড়বে বলে আশাবাদী ক্লাব কতৃপক্ষ।