গ্রামের মানুষের অমতে কোনওভাবেই হাতি তাড়ানোর কাজ হবে না, বললেন মুখ্য বনপাল

0
167

পত্রিকা প্রতিনিধিঃ  শুক্রবার হাতি নিয়ে মেদিনীপুর শহর সংলগ্ন গোপগড় ইকোপার্কে একটি বৈঠকে এমনই সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুখ্য বনপাল (পশ্চিম চক্র) শংকর দে সহ চারটি ডিভিশনের ডিএফও, এডিএফওরা। ঝাড়গ্রামে প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্দেশ দিয়ে গিয়েছেন, হাতি অনেক ক্ষয়ক্ষতি করছে। গ্রামে ঢুকে হাতি যেন এত ক্ষয়ক্ষতি না করতে পারে, তা দেখতে হবে। পাশাপাশি সম্প্রতি হাতি খেদানো নিয়ে গ্রামবাসী ও হুলাপার্টির সংঘর্ষে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বন দপ্তরের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে হুমগড় রেঞ্জ অফিসে গ্রামবাসীরা ভাঙচুরও চালায়। এই অবস্থায় এই বৈঠক যথেষ্টই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
জানা গিয়েছে, এদিন বৈঠকে বারবার বলা হয়, হাতি নিয়ে সমস্যা ঠেকাতে প্রয়োজন সমস্ত ডিভিশনের মধ্যে সমন্বয়। অনেক ক্ষেত্রেই এবিষয়ে ঘাটতি থাকছে। এমনকী, জনপ্রতিনিধি, গ্রামবাসীদের সঙ্গে সমন্বয় থাকছে না বন দপ্তরের। এই ফাঁকগুলি দূর করার জন্য এদিন দীর্ঘক্ষণ ধরে আলোচনা হয়েছে। ঠিক হয়েছে, হাতি নিয়ে কোনও অভিযান হলে গ্রামবাসীদের তা জানানো হবে। আলোচনা করে অভিযানের গুরুত্ব বোঝানো হবে। আর যে জঙ্গলে হাতি থাকছে, তার আশপাশের গ্রামগুলিতে হুলা পার্টি রাখা, হাতির দলকে দূরে রাখতে প্রয়োজনীয় জিনিসের পর্যাপ্ত সরবরাহ করার কাজও করতে হবে।
মেদিনীপুরের ডিএফও রবীন্দ্রনাথ সাহা বলেন, সম্বন্বয় আরও বাড়ানো, গ্রামবাসীদের সঙ্গে পরামর্শ করার ব্যাপারে এদিন বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। হাতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী যা নির্দেশ দিয়েছেন, সবরকমভাবে তা পালন করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। সেজন্যই এদিনের বৈঠক। এরপর ডিভিশন, রেঞ্জ, বিট ধরে ধরে বৈঠক হবে। যাতে হাতি নিয়ে আমাদের দিক থেকে যেটুকু গাফিলতি রয়েছে, তা দূর করা যায়। 
রূপনারায়ণের ডিএফও অর্ণব সেনগুপ্ত বলেন, গ্রামের লোকের সঙ্গে আলোচনা করে হাতি তাড়ানোর পথ নির্দিষ্ট করে তবেই অভিযান করা হবে। আমরা সব সময়ই চেষ্টা করি, লোকের প্রাণ যাতে না যায়, বাড়িঘর যাতে হাতিতে নষ্ট করতে না পারে, সঙ্গে ফসলের ক্ষয়ক্ষতিও যাতে কমানো যায়।
বন দপ্তর সূত্রে খবর, এই মুহূর্তে লালগড়ে ৪০ থেকে ৫০টি মতো হাতির পাল, অন্যদিকে রূপনারায়ণ বিভাগে ৬০টির উপরে হাতির পাল রয়েছে। হাতির পালে একাধিক বাচ্চা থাকায় ও হাতিরা একাধিক ছোট দলে ভাগ হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাড়ছে। মাঠে এখন পাকা ধান থাকায় হাতি খেদাতে সমস্যাও হচ্ছে বন দপ্তরের। দপ্তরের এক কর্তা বলেন, কয়েকদিনের মধ্যেই ঝাড়খণ্ডের দিকে হাতি খেদানোর কাজ শুরু হবে।