প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভ্রুকুটি সত্বেও চরম ব্যস্ততা কুমোর পাড়ায়

0
88
পত্রিকা প্রতিনিধিঃ এখন চরম ব্যস্ততা কুমোর পাড়ায়। প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভ্রুকুটি কাটতেই এখন নাওয়া খাওয়ার সময় নেই। সেই রাত্রিতে উঠে বসে পড়েন হলাল চক্রের সামনে। চলে সকাল পর্যন্ত চাকা ঘুরিয়ে হাতের কেরামতির মাটির হাঁড়ি, কলসি থেকে শুরু করে প্রদীপ, সরা, খুরি বিভিন্ন জিনিস তৈরি করা। সকাল হওয়ার সাথে সাথে সেই মাটির তৈরি কাঁচা জিনিসগুলো রোদ্রে শুকনো করা । তারপর আবার পুয়ানে পুড়িয়ে সেগুলিকে ব্যবহারের উপযোগী করে বাজারজাত করা। দীপাবলির আগে এমনিতেই একটু চাপ থাকে কুমোর পাড়ায়। তার উপর আবার সেই চাপ এবার বাড়িয়ে দিয়েছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ। দুর্গাপুজোর আগের থেকেই চলছে এই দুর্যোগ। হঠাৎ হঠাৎ বৃষ্টি চলে আসার ফলে হাতে গড়া কাঁচা মাটির জিনিস অনেক নষ্ট হয়ে যায়। ফলে সমস্যা সৃষ্টি হয়। গোয়ালতোড়ের কিয়ামাচা, শালবনির পোড়াডিহা প্রভৃতি গ্রামের কুমোর পাড়ায় তাই চলছে এখন চরম ব্যস্ততা। বছর ষাটেকের সুধীর পাল বলেন, “আমাদের এই কাজে বাড়ির প্রতিটি সদস্যেরই প্রয়োজন হয়। কেউ মাটি মাখে, কেউ বা চাকা  ঘুরাই, কেউ বা আবার তৈরি করা জিনিসগুলো সরিয়ে সরিয়ে সাজিয়ে রাখে। একটা হাঁড়ি ব্যবহার যোগ্য করে তোলার জন্য চারবার একটা হাঁড়ির পেছনে খাটতে হয়। তবেই সেটি ব্যবহার যোগ্য হয়ে ঊঠে।” রেবতি পাল নামে এক গৃহবধু বলেন আমার বাড়ির সদস্য সংখ্যা কম। অনেক কষ্টে রাত জেগে মাটির জিনিস তৈরি করতে হয়। এই সমস্যা একদিনের নয়। দীপাবলির আগে তো মাঝে মাঝেই হয়েছে। ফলে খুব সমস্যায় পড়েছি।” সুধীরবাবু বলেন। এমনিতেই এখন আর মাটির জিনিসের কদর নেই। তার উপর একভাবে প্রকৃতিও যদি আমাদের উপর সদয় না হয় তা হলে তো সংসার চালানো দায়।” তিনি আরও জানান আগে গোয়ালতোড়ের হাট প্রতি শনিবার যেখানে এক থেকে দেড় হাজার মাটির জিনিস বিক্রি করতে একন দেড়শো দুশোটি মাটির জিনিসও বিক্রি হয় না। তার তিন ছেলের দুজন এই কাজের সঙ্গে যুক্ত নন। তাদের বক্তব্য পড়াডিহা গ্রামে ৩০-৪০টি ঘর কুমোর থাকলেও এখন মাত্র ১০-১২টি বাড়ি এই কাজের সঙ্গে যুক্ত। কারণ এমনিতেই আর কদর নেই তার উপর যেই সময় মাটির জিনিসের চাহিদা সেই সময় প্রাকৃতিক দুর্যোগ লেগেই থাকে। ফলে রোজগার সেই মতো হয় না। কল্পনা পাল জানান প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে আকাশ মেঘলা ও বৃষ্টি হওয়ার দরুন আমরা ঠিক ঠাক কাজই করে উঠতে পারিনি। মা কালী এখন সদয় হয়েছেন। তাই প্রাকৃতিক দুর্যোগ কেটে গিয়েছে। এখন আমাদের চরম ব্যস্ততা। তৈরি করা, শুকনো করা, পোড়ানো তারপর আবার বিক্রির জন্য নিয়ে যাওয়া।